ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রেমের অভিনয় করে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে আলোচিত সানজিদা তাবাসুম স্বর্ণা (২৬)-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সম্প্রতি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। আদালত গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) স্বর্ণাকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল মাসে নারায়ণগঞ্জের সিদ্বিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে স্বর্ণাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে মুহূর্তেই সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে ঘটনাটি। তবে পরবর্তী তদন্তে উঠে আসে, অভিযোগটি ছিল ব্যক্তিগত বিরোধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী পক্ষ অর্থ লেনদেন ও ব্ল্যাকমেইলের যে দাবি করেছিল, তা প্রমাণে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল বা সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি। বরং মামলার বিভিন্ন তথ্য পরস্পরবিরোধী হওয়ায় আদালতের কাছে অভিযোগটি টেকসই হয়নি।
এ ঘটনার ফলে সানজিদা তাবাসুম স্বর্ণাকে চরম সামাজিক হেয়প্রতিপন্নতা, মানসিক চাপ ও ব্যক্তিগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। মিথ্যা অভিযোগের কারণে তার পরিবারকেও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও থেমে থাকেননি এই তরুণী। জানা গেছে, তিনি সিটি ডেন্টাল কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। মিথ্যা মামলার মানসিক ও সামাজিক চাপ কাটিয়ে উঠে তিনি সফলভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে তিনি শোরুম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি ঢাকার পল্লবী এলাকায় নিজস্ব চেম্বারে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, মিথ্যা মামলা শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, পুরো পরিবার ও সমাজে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা এমন ঘটনায় আরও দায়িত্বশীল আচরণ এবং সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের মত, মিথ্যা মামলার মাধ্যমে কাউকে ফাঁসানোর প্রবণতা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মানসিক, সামাজিক ও পেশাগত পুনর্বাসনে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।









