বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ষান্মাসিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত
জাতীয় সংকট উত্তরণে সংলাপ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ষান্মাসিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার (২৪ মে) সকালে ঢাকার মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে দলের নায়েবে আমীরবৃন্দ, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং মজলিসে শূরার (পুরুষ ও মহিলা) সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে আমীরে জামায়াত বলেন
সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে অধিবেশন উদ্বোধনকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের দীর্ঘ যাত্রাপথে জাতির বহু প্রত্যাশা এখনো অপূর্ণ থেকে গেছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। ক্ষমতাসীনরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ১৫ বছরে দেশ দুঃশাসনের কবলে পড়েছে। মানুষ নির্যাতনের স্টিমরোলারের নিচে পিষ্ট হয়েছে।”
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের ভূমিকা নিয়ে কঠোর প্রতিবেদন দিয়েছে। আমরা আজ একটি সংকটময় সময় পার করছি। এই সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং গঠনমূলক সংলাপ প্রয়োজন।”
দলীয় অবস্থান ও আহ্বান
জামায়াতে ইসলামী সবসময় জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে—উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি সর্বদলীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছি। সকল রাজনৈতিক পক্ষের সন্তোষজনক আলোচনার মাধ্যমে জাতির আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা দূর করা সম্ভব। এজন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা এখন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের ‘ডামি-আমি’ নাটকীয় নির্বাচন জাতির সাথে তামাশা। এবার জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।”
সমসাময়িক বিষয়ে বক্তব্য
সম্প্রতি আলোচিত ‘মানবিক করিডোর’ ও ‘চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা’ ইস্যুতে তিনি বলেন, “এসব বিষয়ে সিকিউরিটি এক্সপার্ট ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অথবা বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত পার্লামেন্টের উপর ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে।”
সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের গর্বের প্রতীক। ইতিহাসে তাদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তাদের বিতর্কিত করা উচিত নয় বরং তারা যেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে।”
আন্তর্জাতিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ
ফিলিস্তিনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গাজায় চলমান মানবতাবিরোধী যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বসম্প্রদায়কে যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানাতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে তারা নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।”
গণমাধ্যম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সমাজ গঠনে তাদের ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন। আমাদের প্রত্যাশা, আপনারা সাহসিকতার সঙ্গে কালোকে কালো ও সাদাকে সাদা বলবেন।”
সমাপ্তি বক্তব্যে তিনি বলেন
“আমরা অতীতে ত্যাগ করেছি, ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুত। ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আসুন আমরা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ হই।”
তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ যেন বাংলাদেশকে সকল ষড়যন্ত্র ও সংকট থেকে রক্ষা করেন এবং জাতিকে ঐক্য ও সংহতির পথে পরিচালিত করেন।










