রিপোর্ট প্রকাশের পর বরগুনার ভুয়া থেরাপিস্ট সঞ্জয় মিস্ত্রিকে বদলি, উঠেছে যৌন হয়রানির অভিযোগ
—
বরগুনা:
চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশের পর বরগুনা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় মিস্ত্রিকে বান্দরবানে বদলি করা হয়েছে। চিকিৎসা বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা সনদ না থাকলেও তিনি নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফিজিওথেরাপি দিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে নারী রোগীদের প্রতি অশালীন আচরণের অভিযোগও উঠেছে।
বরগুনা সদরের লাকুরতলা এলাকার শিশু ফাতিমা আক্তার ফিহা জন্মগত শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। ৬ মাস বয়স থেকে প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রে ফিজিওথেরাপির জন্য আনা হচ্ছিল তাকে। ফাতিমার দাদী রাজিয়া বেগম জানান, “সঞ্জয় বাবু চিকিৎসকের পরিচয়ে থেরাপি দেন, অফিসের সবাই তাকে ‘স্যার’ বলে ডাকেন। তাই ভাবতাম উনি বড় ডাক্তার। এখন বুঝতে পারছি, উনি চিকিৎসকই না।”
শুধু শিশু নয়, অভিজ্ঞতা ছাড়াই বহু বৃদ্ধকেও থেরাপি দিয়েছেন তিনি। এক ভুক্তভোগী আবুল কালাম বলেন, “আমি অনেকদিন উনার কাছে থেরাপি নিয়েছি। এখন বুঝলাম, এটা বড় ধরনের প্রতারণা।”
তথ্যচিত্রে দেখা গেছে, নারীদের থেরাপি দেওয়ার সময় তিনি অশ্লীল ভঙ্গিতে শরীরে ওঠে যাচ্ছেন, যা যৌন হয়রানির পর্যায়ে পড়ে। এমন একাধিক ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাতের বেলায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে কেন্দ্রের মালামাল ব্যবহার করে তিনি শহরের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে থেরাপি দেন।
এ বিষয়ে সঞ্জয় মিস্ত্রি বলেন, “আমি চিকিৎসক নই, তবে কিছু ধারণা থেকে থেরাপি দেই। কেউ অভিযোগ করলে কাজ বন্ধ করব।”
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ জানান, “এটি গুরুতর অপরাধ। অনভিজ্ঞ ব্যক্তির থেরাপি থেকে রোগীর স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।”
সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সহিদুল ইসলাম জানান, “তার কোন এখতিয়ার নেই ফিজিওথেরাপি দেওয়ার। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।”
ঘটনার পর জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
সুত্র:- দৈনিক ভোরের কন্ঠ।










