ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।

  • প্রকাশঃ ১০:০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • ৮৮৫ জন দেখেছেন

বরগুনায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

রহমাতুল্লাহ বরগুনা:

গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক এস এম শরিয়ত উল্লাহ্ বরগুনা জেলার সব সড়ক ও মহাসড়কে পৌরসভার নামে বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে টোল (চাঁদা) আদায় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন । বরগুনা জেলাধীন আর কোনো সড়ক ও মহাসড়ক থেকে এ ধরনের টোল (চাঁদা) আদায় করা হয় কি না, সে মর্মে আদালতকে লিখিতভাবে অবগত করার জন্য সব পৌরসভার প্রশাসক ও অফিসার ইনচার্জদের নির্দেশ প্রদান করা হয় ।

 

এ ছাড়া বরগুনা জেলার সকল পৌরসভাকে টোল আদায় বন্ধে পুনরায় নির্দেশনা প্রদান এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক আদালতকে অবগত করার জন্য উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বরগুনাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে ।

 

টার্মিনাল ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে কোনো টোল আদায় করা যাবে না মর্মে মহামান্য হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করে এখনো বরগুনা সদরের পৌর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে আদায় করা হচ্ছে পৌর টোল ।

বরগুনা পৌর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিটি ট্রাক, ট্রলি, লরি, মালবাহী ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে প্রতিদিন পৌর টোল আদায় করা হচ্ছে । প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই টোল আদায় করা হয় ।

 

গত ২১ এপ্রিল ২০২২ তারিখ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত ৪৬৪০/২০২২ নম্বর রিট পিটিশনের আদেশের আলোকে টার্মিনাল ব্যতিরেকে সড়ক বা মহাসড়ক থেকে কোনো প্রকার টোল উত্তোলন না করার জন্য সকল সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভার মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ হতে নির্দেশনা প্রদান করা হয় । গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এ নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণালয়ের ৪৬,০০,০০০০,০৬৩,৩১,০০২,১৩- ১২৬৬ নং স্বারকে স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-১ শাখার উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন), যুগ্ম সচিব (নগর উন্নয়ন-২), উপ-সচিব (পৌর-২), সচিবের একান্ত সচিব (ঢাকা) এবং সকল পৌরসভার মেয়রকে পত্র দেওয়া হয়েছে ।

 

অথচ ওই পত্রে হাইকোর্টের আদেশে টার্মিনাল, পার্কিং বা স্ট্যান্ড ব্যতীত সড়ক ও মহাসড়ক থেকে কোনো প্রকার টোল আদায় করা যাবে না উল্লেখ করা থাকলেও হাইকোর্টের ওই নির্দেশ অমান্য করে এখনো দেশের বিভিন্ন যায়গায় প্রকাশ্যে সড়ক ও মহাসড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহন থামিয়ে পৌর টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে । এতে হয়রানি ও বাড়তি ভোগান্তির পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষি পণ্যের জন্য অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে । এজন্য উৎপাদিত কৃষি পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে । ফলে বাজারে এসবের দাম বাড়ছে । যার প্রভাব ভোক্তাদের উপরে পড়ছে । অন্যদিকে ব্যক্তিগত পণ্যের উপরও আদায় করা হচ্ছে টোল ।

 

নিয়মানুযায়ী যেকোনো পৌর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্ট্যান্ড বা টার্মিনাল ও পার্কিং এরিয়ার ভেতরে কোনো গাড়ি পার্ক করলে এবং পৌর এলাকার নির্দিষ্ট যায়গায় কোনো হাট বসলে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট ইজারাদার টোল আদায় করতে পারেন এবং টোলের রশিদে ইজারাদারের তথ্য উল্লেখ থাকতে হয় । টোল আদায়ের ক্ষেত্রে ইজারাদারদের জন্য নির্দিষ্ট হার উল্লেখসহ শর্তাবলী দেওয়া থাকে । যার কোনোটিই নেই এসব পৌর টোল আদায়ের ক্ষেত্রে ।

 

কোনো ধরনের পার্কিং, টার্মিনাল কিংবা স্ট্যান্ড না থাকলেও মাঝ সড়কে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় পৌর টোল আদায় করার বিষয়টি কতটা যৌক্তিক ? এটাকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ছাড়া আর কি বলা যায়!

 

দেশে চলছে দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি । সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে । আর একটা পক্ষ এভাবে পৌর টোলের নামে চাঁদাবাজি করে আরো বিপাকে ফেলছে সাধারণ মানুষদের ।

ট্যাগ
অধিক পঠিত
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-2680215667423951"
     crossorigin="anonymous"></script>

ক্যারিশমাটিক লিডার ‘মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ’

বরগুনায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ।

প্রকাশঃ ১০:০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

বরগুনায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে মহাসড়কে টোলের নামে চাঁদাবাজি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

রহমাতুল্লাহ বরগুনা:

গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ বরগুনার দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক এস এম শরিয়ত উল্লাহ্ বরগুনা জেলার সব সড়ক ও মহাসড়কে পৌরসভার নামে বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে টোল (চাঁদা) আদায় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন । বরগুনা জেলাধীন আর কোনো সড়ক ও মহাসড়ক থেকে এ ধরনের টোল (চাঁদা) আদায় করা হয় কি না, সে মর্মে আদালতকে লিখিতভাবে অবগত করার জন্য সব পৌরসভার প্রশাসক ও অফিসার ইনচার্জদের নির্দেশ প্রদান করা হয় ।

 

এ ছাড়া বরগুনা জেলার সকল পৌরসভাকে টোল আদায় বন্ধে পুনরায় নির্দেশনা প্রদান এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণপূর্বক আদালতকে অবগত করার জন্য উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বরগুনাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে ।

 

টার্মিনাল ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে কোনো টোল আদায় করা যাবে না মর্মে মহামান্য হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করে এখনো বরগুনা সদরের পৌর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে আদায় করা হচ্ছে পৌর টোল ।

বরগুনা পৌর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিটি ট্রাক, ট্রলি, লরি, মালবাহী ভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি থেকে প্রতিদিন পৌর টোল আদায় করা হচ্ছে । প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই টোল আদায় করা হয় ।

 

গত ২১ এপ্রিল ২০২২ তারিখ মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত ৪৬৪০/২০২২ নম্বর রিট পিটিশনের আদেশের আলোকে টার্মিনাল ব্যতিরেকে সড়ক বা মহাসড়ক থেকে কোনো প্রকার টোল উত্তোলন না করার জন্য সকল সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভার মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ হতে নির্দেশনা প্রদান করা হয় । গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এ নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণালয়ের ৪৬,০০,০০০০,০৬৩,৩১,০০২,১৩- ১২৬৬ নং স্বারকে স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-১ শাখার উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন), যুগ্ম সচিব (নগর উন্নয়ন-২), উপ-সচিব (পৌর-২), সচিবের একান্ত সচিব (ঢাকা) এবং সকল পৌরসভার মেয়রকে পত্র দেওয়া হয়েছে ।

 

অথচ ওই পত্রে হাইকোর্টের আদেশে টার্মিনাল, পার্কিং বা স্ট্যান্ড ব্যতীত সড়ক ও মহাসড়ক থেকে কোনো প্রকার টোল আদায় করা যাবে না উল্লেখ করা থাকলেও হাইকোর্টের ওই নির্দেশ অমান্য করে এখনো দেশের বিভিন্ন যায়গায় প্রকাশ্যে সড়ক ও মহাসড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহন থামিয়ে পৌর টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে । এতে হয়রানি ও বাড়তি ভোগান্তির পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষি পণ্যের জন্য অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে । এজন্য উৎপাদিত কৃষি পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে । ফলে বাজারে এসবের দাম বাড়ছে । যার প্রভাব ভোক্তাদের উপরে পড়ছে । অন্যদিকে ব্যক্তিগত পণ্যের উপরও আদায় করা হচ্ছে টোল ।

 

নিয়মানুযায়ী যেকোনো পৌর কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্ট্যান্ড বা টার্মিনাল ও পার্কিং এরিয়ার ভেতরে কোনো গাড়ি পার্ক করলে এবং পৌর এলাকার নির্দিষ্ট যায়গায় কোনো হাট বসলে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট ইজারাদার টোল আদায় করতে পারেন এবং টোলের রশিদে ইজারাদারের তথ্য উল্লেখ থাকতে হয় । টোল আদায়ের ক্ষেত্রে ইজারাদারদের জন্য নির্দিষ্ট হার উল্লেখসহ শর্তাবলী দেওয়া থাকে । যার কোনোটিই নেই এসব পৌর টোল আদায়ের ক্ষেত্রে ।

 

কোনো ধরনের পার্কিং, টার্মিনাল কিংবা স্ট্যান্ড না থাকলেও মাঝ সড়কে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় পৌর টোল আদায় করার বিষয়টি কতটা যৌক্তিক ? এটাকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ছাড়া আর কি বলা যায়!

 

দেশে চলছে দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি । সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে । আর একটা পক্ষ এভাবে পৌর টোলের নামে চাঁদাবাজি করে আরো বিপাকে ফেলছে সাধারণ মানুষদের ।