ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরগুনায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ৬ বছর পর গ্রেফতার।

  • প্রকাশঃ ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • ৮২৪ জন দেখেছেন

বরগুনায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ৬ বছর পর গ্রেফতার

 

 

বরগুনায় অপহরণের পর অনিক চন্দ্র রায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত মো. সালাউদ্দিন গাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে থাকার পর দেশে ফিরে এলে তাকে গ্রেফতার করা হয় ।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী নামক এলাকার আব্দুস্ সাত্তার গাজীর ছেলে । শনিবার (২৪ মে) বেলা ১২ টার দিকে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন । এর আগে শুক্রবার (২৩ মে) রাত ৯ টার দিকে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট নামক এলাকা থেকে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয় ।

 

পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে বরগুনা পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি সড়কের থানাপাড়া নামক এলাকার বাসিন্দা সুবল চন্দ্র রায়ের ছেলে অনিক চন্দ্র রায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন । পরে দীর্ঘসময় পার হলেও সে আর বাড়িতে ফেরেনি । পরেরদিন সকালে অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল করে অনিকের বাবা সুবল চন্দ্রের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় ।

 

 

অনিকের বাবা সুবল চন্দ্র রায় বলেন, তাদের কথা অনুযায়ী মুক্তিপণ নিয়ে গেলেও তাদের দেখা পাইনি । আমার ছেলের হত্যাকারীকে দীর্ঘদিন পর পুলিশ গ্রেফতার করতে পেরেছে এতে আমি অত্যন্ত খুশি । তার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি ।

 

 

নিখোঁজের ১৭ দিন পর বরগুনা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের পুরাতন ভবনের পাশের সেফটি ট্যাংক থেকে নিখোঁজ অনিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ । এ ঘটনায় ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের ৭ তারিখ সালাউদ্দিন গাজীকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় ।

 

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিদের জিজ্ঞেসাবাদে জানা যায়, সেদিন রাতে (১৯ সেপ্টেম্বর) কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে ডিশ লাইনের তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে অনিককে হত্যা করা হয় । পরেরদিন সকালে অনিকের বাবা সুবল চন্দ্রের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় । এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত আসামি ৬ জনের মধ্যে দুজনকে যাবজ্জীবন এবং প্রধান আসামি সালাউদ্দিন গাজীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয় আদালত ।

 

মামলার পরপরই আসামি সালাউদ্দিন ভারতে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় । পরে ভারত থেকে ফিরে আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ।

 

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জগলুল হাসান বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন গাজি দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পলাতক ছিল । সম্প্রতি দেশে এসে আত্মগোপনে ছিল । গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে তালতলীর ফকিরহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে । দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে ।

ট্যাগ
অধিক পঠিত
<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-2680215667423951"
     crossorigin="anonymous"></script>

ক্যারিশমাটিক লিডার ‘মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ’

বরগুনায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ৬ বছর পর গ্রেফতার।

প্রকাশঃ ০৪:২২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

বরগুনায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি ৬ বছর পর গ্রেফতার

 

 

বরগুনায় অপহরণের পর অনিক চন্দ্র রায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত মো. সালাউদ্দিন গাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে থাকার পর দেশে ফিরে এলে তাকে গ্রেফতার করা হয় ।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী নামক এলাকার আব্দুস্ সাত্তার গাজীর ছেলে । শনিবার (২৪ মে) বেলা ১২ টার দিকে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন । এর আগে শুক্রবার (২৩ মে) রাত ৯ টার দিকে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট নামক এলাকা থেকে সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয় ।

 

পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে বরগুনা পৌর শহরের শহীদ স্মৃতি সড়কের থানাপাড়া নামক এলাকার বাসিন্দা সুবল চন্দ্র রায়ের ছেলে অনিক চন্দ্র রায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন । পরে দীর্ঘসময় পার হলেও সে আর বাড়িতে ফেরেনি । পরেরদিন সকালে অজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল করে অনিকের বাবা সুবল চন্দ্রের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় ।

 

 

অনিকের বাবা সুবল চন্দ্র রায় বলেন, তাদের কথা অনুযায়ী মুক্তিপণ নিয়ে গেলেও তাদের দেখা পাইনি । আমার ছেলের হত্যাকারীকে দীর্ঘদিন পর পুলিশ গ্রেফতার করতে পেরেছে এতে আমি অত্যন্ত খুশি । তার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি ।

 

 

নিখোঁজের ১৭ দিন পর বরগুনা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের পুরাতন ভবনের পাশের সেফটি ট্যাংক থেকে নিখোঁজ অনিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ । এ ঘটনায় ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের ৭ তারিখ সালাউদ্দিন গাজীকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় ।

 

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিদের জিজ্ঞেসাবাদে জানা যায়, সেদিন রাতে (১৯ সেপ্টেম্বর) কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে ডিশ লাইনের তার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে অনিককে হত্যা করা হয় । পরেরদিন সকালে অনিকের বাবা সুবল চন্দ্রের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় । এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত আসামি ৬ জনের মধ্যে দুজনকে যাবজ্জীবন এবং প্রধান আসামি সালাউদ্দিন গাজীকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয় আদালত ।

 

মামলার পরপরই আসামি সালাউদ্দিন ভারতে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় । পরে ভারত থেকে ফিরে আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ।

 

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জগলুল হাসান বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সালাউদ্দিন গাজি দীর্ঘদিন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পলাতক ছিল । সম্প্রতি দেশে এসে আত্মগোপনে ছিল । গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানার একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে তালতলীর ফকিরহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে । দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে ।